Academy

রাজন ও সজিব দুই বন্ধু। তারা শিক্ষিত হয়েও বেকার জীবন কাটাচ্ছে। তারা সিদ্ধান্ত নিল গ্রামে গিয়ে তারা তাদের জমিগুলো কাজে লাগাবে এবং বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভ করবে। তারা গ্রামে গিয়ে স্বল্পপুঁজি দিয়ে হাঁস-মুরগি পালন শুরু করল। ছোট একটা পুকুরে মাছের চাষ শুরু করল এবং জমিতে সবজি চাষ করল। ধীরে ধীরে সঞ্চয় বাড়লে তারা একটি গরুর খামার করল। এভাবে তারা স্বাবলম্বী হলো।

Created: 1 year ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ কাঁচামালকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুতপ্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে।

1 year ago

বাংলাদেশের অর্থনীতি

জনাব রতন একজন ধর্মী কৃষক। গত কয়েক বছর ধরে তাঁর জমিতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করার অধিক ফসল উৎপাদিত হয়। পারিবারিক ব্যয় বহন করার পর উদ্বৃত্ত অতিরিক্ত অর্থ জনাব রতন সংসার করেন। গত বছর তিনি একটি ছোট তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন, যা তাঁর স্ত্রী জয়ন্তী পরিচালনা করেন। সেখানে তাঁর গ্রামের নারী শ্রমিকেরা কাজ করে। তাঁরা তাদের একমাত্র ছেলে রুনীকে একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করেন। রনী অসুস্থ হলে তাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের পরামর্শমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপরিউক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের একটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, যেমন : কৃষি, শিল্প এবং সেবা।

Content added By

Related Question

View More

1 শিল্প কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে

আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণের আয় খুব কম হওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও কম, ফলে উচ্চহারে পুঁজি গঠন করা সম্ভব হয় না

আয় ও ভোগ ব্যয়ের পার্থক্য থেকে সঞ্চয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের সম্পূর্ণ বা বেশির ভাগ অর্থই ভোগ্য পণ্য ক্রয়ে ব্যয় করতে হয়। ফলে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করে পুঁজি তথা মূলধন গঠন করতে পারে না। তাছাড়া সঞ্চয় সংগ্রহের অসুবিধা, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি কারণেও এদেশে মূলধন গঠনের হার কম।

উদ্দীপকে 'A' খাত বলতে কৃষি খাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে বোঝায় কোনো দেশের জাতীয় আয়ের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া। বাংলাদেশের জিডিপিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বর্তমানে (২০১৮-১৯ অর্থবছরে) দেশের GDP-তে কৃষি খাত (ফসল, বন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার এদেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্যের

চাহিদা পূরণেও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন হবে ৪১৫.৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রা), যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৪১৩.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। তাহলে অচিরেই আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করতে সমর্থ হবে। যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার যোগানে সহায়তা করবে। তাছাড়া কৃষি খাত উন্নত হলে অন্যান্য খাত যেমন- শিল্প, সেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামাল আসে কৃষি খাত থেকে। আবার এ যাত বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে। [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
কাজেই আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কৃষি ৩. খাতের উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' খাত কৃষি খাত এবং 'B' খাত হলো শিল্প খাত।
কৃষি ও শিল্প খাত পরস্পর নির্ভরশীল। কৃষি খাতের উন্নতি ও আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম ও সারের যোগান দেয় শিল্প খাত। তেমনি শিল্পের প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করে কৃষি খাত

কৃষি ও শিল্প খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অনেক কারণ রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প যেমন- পাট, চিনি, সার, কাগজ, বস্ত্র প্রভৃতি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বিভিন্ন শিল্পের প্রসারের ফলে কাঁচামালের বর্ধিত চাহিদার কারণে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য দাম পায়, ফলে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়। তাছাড়া কৃষি শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত করে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প খাতের অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য দুটি খাতের
একই সঙ্গে উন্নতি একান্তভাবে কাম্য। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন পরস্পর নির্ভরশীল এবং একে অপরের পরিপূরক।

এদেশের সিংহভাগ গ্রামীণ জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষির অগ্রগতির সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষিকে কেন্দ্র করে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি কৃষির অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

রাজন ও সজিবের কাজগুলো অর্থনীতির কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত।

কৃষি হচ্ছে এরূপ সৃষ্টি সম্বন্ধীয় কাজ যা ভূমিকর্ষণ, বীজ বপন, শস্য-উদ্ভিদ
পরিচর্যা, ফসল কর্তন ইত্যাদি থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য গুদামজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফসল উৎপাদন ছাড়াও মাছ ও মৌমাছি চাষ, পশুপালন ও বনায়ন কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। যেকোনো দেশের জনগণের খাদ্যের যোগানদাতা হিসেবে কৃষি খাতের অবদান অনেক বেশি। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদিত বিভিন্ন খাদ্যশস্য যেমন ধান, গম, যব, তেলবীজ, আলু, ফলমূল প্রভৃতি জনগণের খাদ্য চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে। আবার শিল্প ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যোগান মূলত কৃষি থেকে আসে। আখ, পাট, চা প্রভৃতি কাঁচামালগুলোর ওপর নির্ভর করে পাট, চিনি, চা, কাগজ শিল্প গড়ে উঠেছে। শস্য উৎপাদন ছাড়া কৃষির অন্যান্য উপখাত হলো পশুপালন, মৎস্য চাষ ও বনায়ন।

উদ্দীপকে রাজন ও সজিব বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভের জন্য গ্রামের জমিগুলোকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষ শুরু করে, যা কৃষি খাতে শস্য ও শাকসবজি উপখাতের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া স্বল্প পুঁজি দিয়ে হাঁস-মুরগি পালন ও পুকুরে মাছ চাষের ব্যবস্থা করে। এগুলো যথাক্রমে কৃষি খাতের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদ উপখাতের আওতাধীন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...